নিউজ & স্টোরিজ
গাজার বুকের ভেতরে ক্ষুধা আজ নীরব এক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। বাজারগুলো ধ্বংস, নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী, আর সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ায় অসংখ্য পরিবার খাবারহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। শিশুদের চোখে জমে আছে অনাহারের কষ্ট, আর অপুষ্টির কারণে প্রতিদিনই ঝরে যাচ্ছে অনেক নিরপরাধ প্রাণ।
গাজায় যুদ্ধাহত মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দিতে বর্তমানে MASTUL ফাউন্ডেশন–এর আরেকটি টিম মিসরে অবস্থান করছে। কায়রো থেকে স্বেচ্ছাসেবকরা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্যাকেট করে সরাসরি সীমান্ত পেরিয়ে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর কাছে পাঠাচ্ছেন।
আলহামদুলিল্লাহ! দুর্গম উত্তরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করছে MASTUL ফাউন্ডেশন।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোতে MASTUL ফাউন্ডেশন গর্বের সঙ্গে তাদের টিউবওয়েল স্থাপন কর্মসূচি চালু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অঞ্চলের মানুষ বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির তীব্র সংকটে ভুগছিল। বাধ্য হয়ে তারা দূষিত পানির ওপর নির্ভর করত, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছিল এবং দৈনন্দিন জীবনকে করে তুলেছিল কষ্টসাধ্য।
এই ঈদুল আজহায় মাস্তুল ফাউন্ডেশন দেশব্যাপী কুরবানির কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে, যার মাধ্যমে বন্যাকবলিত ও দুর্গম গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে দরিদ্র শহরাঞ্চল ও এতিমখানা পর্যন্ত বাংলাদেশের হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে— যাতে ঈদের আনন্দ থেকে কেউ বঞ্চিত না থাকে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায়, যেখানে ক্ষুধা গ্রাস করেছে প্রায় প্রতিটি ঘর এবং বিশুদ্ধ পানি হয়ে উঠেছে এক বিরল সৌভাগ্য, সেখানে MASTUL ফাউন্ডেশন আশার বাতিঘর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অবরোধে সহায়তা ও বাজার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় হাজারো পরিবার বেঁচে থাকার জন্য সম্পূর্ণভাবে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
মানবতাই যার মূল লক্ষ্য—বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ মানবিক সংগঠন MASTUL ফাউন্ডেশন সেই পথেই নিরলসভাবে এগিয়ে চলছে। ২০১২ সালে পথশিশুদের সহায়তার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি ঢাকার রাস্তায় ঘুমানো অসহায় শিশুদের জন্য খাদ্য, শিক্ষা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। সেই ক্ষুদ্র সূচনা থেকে আজ MASTUL ফাউন্ডেশন দেশব্যাপী এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত করেছে।
এই ঈদুল আজহায় মাস্তুল মেহমানখানার পরিবেশ ভরে উঠেছিল আনন্দ, হাসি ও ঈদের প্রকৃত চেতনায়— কারণ মাস্তুল এতিমখানার শিশু ও মাস্তুল বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষভাবে কুরবানির গরু ও ছাগল আনা হয়েছিল।